দ্বৈত নাগরিকত্ব: আপিলেও টিকল না চট্টগ্রাম-৯ আসনের জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 12 Jan, 2026
দ্বৈত নাগরিকত্বের জটিলতায় চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে জামায়াতে
ইসলামীর প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হকের বাতিল হওয়া প্রার্থিতা নির্বাচন
কমিশনের (ইসি) আপিল শুনানিতেও বহাল রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব
ত্যাগের উপযুক্ত প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তার মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার আবেদন
নামঞ্জুর করেছে কমিশন।
আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর
আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ
এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানিতে এই সিদ্ধান্ত
নেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রোববার রিটার্নিং
কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাচাই-বাছাইয়ের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের
প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন ফজলুল হক। হলফনামায়
তিনি দাবি করেছিলেন, গত ২৮ ডিসেম্বর তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন।
কিন্তু শুনানিতে উপযুক্ত কাগজ দেখাতে না পারায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার
ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জিয়া উদ্দিন তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। সোমবার
ইসির আপিল শুনানিতেও রিটার্নিং কর্মকর্তার সেই সিদ্ধান্তই বহাল রাখা হয়।
শুনানি
শেষে হতাশা প্রকাশ করে জামায়াত নেতা ফজলুল হক অভিযোগ করেন, তার সঙ্গে
বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “বিএনপির অনেক প্রার্থী দ্বৈত
নাগরিকত্বের কাগজপত্র জমা না দিয়েও বৈধতা পেয়েছেন। কিন্তু রিটার্নিং
অফিসারের মতো নির্বাচন কমিশনও আমার প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিল না। আমার প্রতি
অবিচার করা হয়েছে।”
প্রার্থিতা ফিরে পেতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার
ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “আমি আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে খুব দ্রুতই উচ্চ
আদালতে যাওয়ার ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।”
চট্টগ্রাম মহানগরের
কোতোয়ালি ও বাকলিয়া থানা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৯ আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত
‘মর্যাদাপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই আসনে জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীসহ
মোট ১২ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। ফজলুল হকের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায়
এখানে ভোটের মাঠে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি হতে পারে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী
হিসেবে রয়েছেন দলের দক্ষিণ জেলার সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান।
নির্বাচন
কমিশন জানিয়েছে, সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ১৪১ থেকে ২১০
নম্বর ক্রমিকের আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে মোট ৬৪৫টি আপিল
আবেদন জমা পড়েছে, যার শুনানি আগামী ১৭ জানুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা
রয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়: ২০ জানুয়ারি।
প্রতীক বরাদ্দ:২১ জানুয়ারি।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

